প্রচ্ছদ > জাতীয় >

সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর ফাঁসি কেন কার্যকর হয়নি?

article-img

চাঁদপুরের মেঘনা পাড়ের এক আতঙ্কের নাম ছিল রসু খাঁ। ১১ জনেরও বেশি অসহায় নারীকে ফাঁদে ফেলে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে আদালত তাকে একাধিকবার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তবে বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও এই কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার ও ধর্ষকের ফাঁসি এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। কেন থমকে আছে এই দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া? কী তার মামলার বর্তমান আইনি পরিস্থিতি?

হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল ও বর্তমান অবস্থান

আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রসু খাঁর মামলাগুলো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চাঁদপুরের আলোচিত পারভীন আক্তার হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন মহামান্য হাইকোর্ট। এই রায় ঘোষণার পর থেকেই আইনি বেড়াজালে বন্দি রয়েছে ফাঁসির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া। বর্তমানে এই সিরিয়াল কিলার গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কনডেম সেলে অন্যান্য ফাঁসির আসামিদের সাথে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

যে কারণে আটকে আছে ফাঁসি কার্যকর

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো আসামির ফাঁসি কার্যকর করার আগে বেশ কিছু দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক ধাপ পার হতে হয়। রসু খাঁর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ফাঁসি আটকে থাকার মূল কারণগুলো হলো:

১. আপিল বিভাগের চূড়ান্ত শুনানি: নিম্ন আদালত এবং হাইকোর্ট বিভাগে ফাঁসির রায় বহাল থাকার পর, নিয়মানুযায়ী আসামিপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ পায়। আপিল বিভাগে এই শুনানি শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

২. রিভিউ আবেদন: আপিল বিভাগেও যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তবে আসামি সেই রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনা বা ‘রিভিউ’ আবেদন করার আইনি অধিকার পান।

৩. রাষ্ট্রপতির প্রাণভিক্ষা: সব আইনি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে আসামির সামনে থাকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা বা প্রাণভিক্ষার আবেদন করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রসু খাঁর মামলার এই দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতাগুলো এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ার কারণেই তার ফাঁসির দণ্ড চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা যাচ্ছে না।

রসু খাঁর অপরাধের ইতিহাস

২০০৯ সালে মসজিদের ফ্যান চুরির মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার হয় রসু খাঁ। এরপর পুলিশের ম্যারাথন জেরা ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে গা শিউরে ওঠা সব তথ্য। ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে এবং ভালো চাকরি দেওয়ার নাম করে তিনি একের পর এক নারীকে চাঁদপুরের বিভিন্ন নির্জন চরাঞ্চলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। নিজের মুখে ১১ জন নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন রসু খাঁ। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে চরম প্রতিশোধ নিতেই তিনি নারীদের ওপর এই নির্মম ক্রোধ চরিতার্থ করত বলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জানান।

আইনজীবীদের মতে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সব আইনি প্রক্রিয়া এবং রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই কেবল এই কুখ্যাত অপরাধীর দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হবে, যার জন্য অপেক্ষা করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।


আরো খবর